অনলাইন নিউজঃ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীল টিক বা ভেরিফায়েড ব্যাজ এতদিন মূলত পরিচিত ব্যক্তি, বড় প্রতিষ্ঠান কিংবা অর্থের বিনিময়ে নেয়া মেটা ভেরিফায়েড সেবার ব্যবহারকারীদের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার সেই ধারণায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে ভেরিফিকেশন সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পেছনে প্রকৃত কোনো ব্যক্তি রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা। এর ফলে ভুয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অ্যাকাউন্ট থেকে আসল ব্যবহারকারীদের আলাদা করে শনাক্ত করা আরও সহজ হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভেরিফিকেশন সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীদের কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। অর্থের বিনিময়ে দেয়া মেটা ভেরিফায়েড সেবার বাইরে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই বিশেষ ব্যাজ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
নতুন ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যবহারকারীকে একটি সেলফি ভিডিও জমা দিতে হবে। এরপর সেই ভিডিও অ্যাকাউন্টের ছবি ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে ফেসবুকের সিস্টেম। যাচাই সম্পন্ন হলে উপযুক্ত ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে নতুন ভেরিফায়েড ব্যাজ।
মেটার আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে পরিচালিত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমবে এবং ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন অ্যাকাউন্টটি একজন বাস্তব মানুষের এবং কোনটি নয়।
তবে এই সুবিধা সবার জন্য নয়। ব্যাজটি পেতে হলে অ্যাকাউন্টধারীকে বেশ কিছু প্রাথমিক শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হলো—
১. ব্যবহারকারীর বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। এর কম বয়সীরা এই সুবিধা পাবেন না।
২. ফেসবুকের ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ মেনে অ্যাকাউন্টটি সচল অবস্থায় না থাকলে পাওয়া যাবে না এই ব্যাজ।
৩. অ্যাকাউন্টে পূর্বে কোনো প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় উপস্থাপন বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকলে এই ব্যাজ পাওয়া যাবে না।
৪. ফেসবুক পেজ এবং প্রোফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বিনামূল্যের এই ব্যাজ সুবিধা পাওয়া যাবে না।
৫. মেটার সেলফি ভিডিওভিত্তিক পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে হবে নতুবা ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়া যাবে না।
কবে ও কোথায় পাওয়া যাবে?
মেটা জানিয়েছে, ফিচারটি ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারণ করা হবে। প্রাথমিক অবস্থায় নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি চালু হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য দেশে দেয়া হবে। তবে শুরুর তালিকায় কোন কোন দেশ থাকছে, তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
সচেতনতা বার্তা
অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকি ঠেকাতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মেটার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এটি কেবল মানুষ হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করে, ব্যক্তির ট্রাস্টওয়ার্দিনেস নয়। তাই অনলাইনে আর্থিক লেনদেন বা সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই সতর্ক থাকা জরুরি।