
অনলাইন নিউজঃ মাত্র ৩০০ মিটার সড়ক নিয়ে ৮ বছরের বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষ। সড়কের কার্পেটিং উঠে গেলে এক সময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সেখানে ইট সলিং করে দেয়। কয়েক বছরে সেটিও উঁচুনিচু ও ইট ভেঙে বিভিন্ন স্থানে গর্তে পরিণত হয়েছে। তবু সড়কটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইপাস ধামরাই বাজার থেকে কালামপুর বাজার সড়কের আইঙ্গন এলাকায় ওই ৩০০ মিটার ইটের রাস্তার অবস্থান। ধামরাই উপজেলা পরিষদ, থানা, পৌর বাজার, ধামরাই সরকারি কলেজ, আফাজ উদ্দিন কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। ৮ বছর আগে ইট সলিং করে মেরামত করা এ সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার সোমভাগ, কুল্লা, সুতিপাড়া, সানোড়া, কুশুরা, গাংগুটিয়া, বালিয়া, আমতা, চৌহাটসহ ১০টি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষ।
এ সড়কের আইঙ্গন মোড় থেকে পশ্চিম আইঙ্গন পর্যন্ত ৩০০ মিটারের কার্পেটিং উঠে বেহাল হয়ে গেলে ২০১৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্পেটিংয়ের ওপর দিয়ে ইট সলিং করে রাস্তাটি মেরামত করে। এরপর ধীরে ধীরে এ রাস্তার অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। ইটের রাস্তায় পানি জমে ও উঁচুনিচু হয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। কালামপুর বাজার থেকে ধামরাই পৌর বাজার সড়কের আইঙ্গন হয়ে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, প্রাইভেটকার, ট্রাকসহ গার্মেন্টসের শ্রমিকবাহী বাস যাতায়াত করে থাকে। এসব যানবাহন আইঙ্গন ইটের রাস্তায় এলেই শুরু হয় ভোগান্তি। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না করায় সলিং করা ইট ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে এই স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
ইজিবাইক চালক মোশারফ হোসেন বলেন, কালামপুর বাজার থেকে ধামরাই বাজার পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের মধ্যে আইঙ্গন এলাকায় ৩০০ মিটার ইট সলিং রাস্তা রয়েছে। ৮ বছর ধরে রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। এই ইটের রাস্তায় এলেই যাত্রীরা বকাঝকা শুরু করেন।
সানোড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, আইঙ্গনের রাস্তা হয়ে প্রায়ই উপজেলা পরিষদ ও থানায় যাতায়াত করতে হয়। ইটের রাস্তায় এলেই ঝাঁকুনিতে পেট ব্যথা শুরু হয়ে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৩০০ মিটার এই ইটের সলিং তুলে কার্পেটিং করলেই লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
ধামরাইয়ে কয়েক বছর ধরে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পাওয়া আফাজ উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমার কলেজের শিক্ষার্থীরা রিকশা-অটোরিকশা ও ইজিবাইকযোগে প্রতিদিন আইঙ্গন ইটের রাস্তার ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে। রাস্তাটি এখন
গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত রাস্তাটি কার্পেটিং করা উচিত।
ধামরাই পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আইঙ্গন রাস্তাটি পৌরসভার মধ্যে পড়লেও তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। ফলে পৌরসভার পক্ষ থেকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে সংস্কার করতে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলমের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নয়ারহাট সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, ধামরাইয়ের আইঙ্গন ৩০০ মিটার ইটের রাস্তাটি কার্পেটিং করার জন্য খুব শিগগির টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। এতে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করছি।সূত্রঃ সমকাল
মন্তব্য করুন