
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে বলে দলের একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সংসদ ভবন এলাকার পাশে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে তাকে দাফন করা হতে পারে। সেখানেই রয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পরপরই বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন।
চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত ১৫ অক্টোবরও তিনি একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেদিন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, তার বুকে সংক্রমণ ছিল এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুস আক্রান্ত হয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করেন। সে সময় তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৮ জানুয়ারি তিনি লন্ডন যান। চার মাস চিকিৎসা শেষে ৬ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে ফেরেন।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার দাফন ও জানাজা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিবারের সম্মতি ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা বিবেচনা করে নেওয়া হবে। তার মৃত্যুতে বিএনপি ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন