
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আসন সমঝোতায় ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।
রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ১০ দলের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ ও ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। সেখানে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনে সমঝোতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের প্রাথমিক বক্তব্যে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণামঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের জন্য চেয়ার রাখা হলেও তিনি বা তাঁর দলের কেউ সেখানে যোগ দেননি। ফলে এখন পর্যন্ত কার্যত ১০ দলকে সমঝোতায় দেখা যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।
তিনি জানান, সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ১৭৯ আসনে এবং জুলাই গণ–অঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৩০টি আসনে। ঐক্যভুক্ত মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ২টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসন পাচ্ছে।
এর বাইরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি। চূড়ান্ত হয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসন সমঝোতার বিষয়টিও।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জোট ভাঙেনি, জোট আছে। কোনো একটা দল যে কারণেই হোক একমত হলো না। এর মানে তো জোট ভাঙা নয়। এটি আসলে জোটও নয়, নির্বাচনী ঐক্য।
ইসলামী আন্দোলনের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘একটি দল সূচনায় আমাদের সঙ্গে ছিল, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে না। এটা ভাঙনের কোনো ব্যাপার নয়। তারা নিজেদের নিয়ে আরও বোঝাপড়া করছেন৷ তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমরা আশা করছি, তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’
এদিকে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে দলের অবস্থান জানাতে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল তিনটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন। ঢাকার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে রাত সাড়ে আটটার দিকে দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ঐক্যের মূল বক্তব্য তুলে ধরেন জামায়াতের আমির। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন৷
সংবাদ সম্মেলন শেষে ১০ দলের নেতারা হাতে হাত দিয়ে ওপর তুলে ধরে ঐক্যের বার্তা দেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন।
মন্তব্য করুন