
বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে যে কজন ধ্রুবতারা আপন মহিমায় উজ্জ্বল , তাদের মধ্যে অন্যতম বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া । সংগ্রামের ও আপষহীন ছিল তার রাজনৈতিক জীবন। তার চিরবিদায়ের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটল এক দীর্ঘ সংগ্রামের, যা ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নিবেদিত ।
গণতন্ত্রের জন্য যে মহীয়সী নারী নিজের ঘর-সংসার, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, সন্তানের মায়া ত্যাগ করে দেশের ভাগ্যাহত মানুষদের স্বজন ভেবে বাংলাদেশের মাটি আঁকড়ে বেঁচে ছিলেন। তিনি চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে, আমাদের ছেড়ে। তবে এটা তার শারীরিক প্রস্থান। তিনি বেচে রবেন কোটি মানুষের হৃদয় জুড়ে দেশভরা ভালোবাসা নিয়ে ।
খালেদা জিয়ার জানাজার ময়দান ভরে যায় কানায় কানায়। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভেনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের সব সড়ক, অলিগলি থেকে অজস্র মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত জানাজার লাইন মূল ভ্যেনু থেকে ছাড়িয়ে যায় পৌঁছে যায় কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও, ধানমন্ডি আর বিজয় সরণিতেও।
এর আগে পরিবারের পক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। আমি আজকে এখানে উপস্থিত সকল ভাইয়েরা এবং বোনেরা-যারা উপস্থিত আছেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় যদি আপনাদের কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ। একই সাথে উনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় উনার কোনো ব্যবহারে, উনার কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা যাতে উনাকে বেহেশত দান করেন।
বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় বেগম জিয়ার জানাজা। জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে চতুর্দিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
সেখানে ও আশপাশের সব রাস্তাজুড়ে সমবেত হন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ।
এছাড়া বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিক ও বিদেশী অতিথিরাও অংশ নেন তার জানাজা। দেশের নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানাজায় শরিক হন। জানাজায় নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন